কীভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়? পরবর্তী সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী হবে?

0
কীভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়

কেন ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়?

নিম্নলিখিত কারণে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয় –

  • প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়কে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা।
  • ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রগতি সম্বন্ধে সচেতন করা।
  • একই সঙ্গে একই সমুদ্রে একাধিক ঝড় থাকলে তৈরি হলে তা চিহ্নিত করার সমস্যা দূর করা।
  • সহজে মনে রাখা।
  • সাধারণ মানুষের কাছে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণকারী সংস্থা

বিশ্বব্যাপী মোট ১১ টি সংস্থা (৬ টি রিজিয়নাল স্পেশালাইজড মেটেরোলজিক্যাল সেন্টার – RSMC এবং ৫ টি রিজিয়নাল ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ওয়ার্নিং সেন্টার – TCWC) ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করে। ৬ টি RSMC এর মধ্যে একটি হল ভারতের আবহাওয়া দপ্তর।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (World Meteorological Organisation – WMO) এবং ইউনাইডেট নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া এন্ড দ্য প্যাসিফিক-এর (United Nations Economic and Social Commission for Asia and the Pacific – ESCAP) সদস্য দেশগুলি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে।

কোন কোন দেশ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে?

বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) ও আরব সাগর (Arabian Sea) সহ উত্তর ভারত মহাসাগরে (North Indian Ocean) উৎপত্তি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে ১৩ টি (২০০৪ সাল থেকে ছিল ৮ টি, ২০১৮ সালে আরও ৫ টি দেশ যুক্ত হয়) দেশের সদস্য নিয়ে গঠিত কমিটি। প্রথম ৮ টি দেশ হল বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। পরে যুক্ত হওয়া ৫ টি দেশ হল ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ইয়েমেন।

কীভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়?

ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্বাচন করার জন্য একাধিক শর্ত আছে। শর্তগুলি হল –

  • প্রস্তাবিত নামগুলি যেন কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি, কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং লিঙ্গ নিরপেক্ষ হয়।
  • নাম এমনভাবে পছন্দ করা হবে যেন পৃথিবীর কোন জনগোষ্ঠীর ভাবনায় আঘাত না করে।
  • নামের মধ্যে রুক্ষতা এবং নির্মমতা যেন খুব বেশি প্রকাশিত না হয়।
  • সহজে উচ্চারণ করা যায় অথচ সংক্ষিপ্ত এমন নাম হতে হবে।
  • নামে সর্বোচ্চ আটটি বর্ণ থাকবে।
  • প্রস্তাবিত নামের সঙ্গে উচ্চারণ নির্দেশিকা দিতে হবে।
  • উত্তর ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের নামগুলির যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।

WMO/ESCAP PTC (প্যানেল অন ট্রপিক্যাল সাইক্লোন) তে থাকা সমস্ত দেশের কাছ থেকে ঝড়ের প্রস্তাবিত নাম জানতে চাওয়া হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে নাম চূড়ান্ত হয় এবং নামের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে সেই তালিকা থেকে ঝড়ের নাম দেওয়া হয়।

ভারতের ক্ষেত্রে জনসাধারণের কাছ থেকে সাইক্লোনের প্রস্তাবিত নাম কী হবে তা জানতে চাওয়া হয়। পরে ঐ নামগুলি ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) চূড়ান্ত করে PTC কে জানায়।

কীভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা থেকে নামকরণ করা হয়?

PTC তে থাকা দেশগুলির নাম ইংরেজি বর্ণমালা অনুসারে সাজানো হয়।

২০০৪ সালে প্রতিটি দেশের ৮ টি করে নাম বাছাই করে মোট ৬৪ টি ঝড়ের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। এই তালিকার প্রথম নাম ছিল ‘অনিল’ এবং শেষ নাম ছিল ‘আম্ফান’।

২০২০ সালে ১৩ টি দেশের প্রতিটি থেকে ১৩ টি করে নাম বাছাই করে মোট ১৬৯ টি ঝড়ের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকার প্রথম নাম ছিল ‘নিসর্গ’ এবং শেষ নাম ছিল ‘সমহা’। বর্তমানে এই তালিকা থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়।

কীভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা থেকে নামকরণ করা হয়?

বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরসহ উত্তর ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ এই তালিকা থেকে করা হয়। সৃষ্ট ঝড়ের গতিবেগ প্রতি ঘন্টায় ৬২ কিমি বা আরও বেশি হলে এই তালিকা থেকে নামকরণ করা হয়।

দক্ষিণ চীন সাগর থেকে উৎপন্ন হয়ে থাইল্যান্ড অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরে পড়লেও এই তালিকা থেকে নাম নেওয়া হয় না।

প্রথমে নামটি নেওয়া হয় ১ ম রো এর ১ ম কালাম থেকে। পরে একই কালামের পরের নামটি ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ পরপর নিচের দিকে নামতে হবে। এইভাবে ১ ম কালামের প্রতিটি রো শেষ হওয়ার পর একইভাবে ২ য় কালাম থেকে নাম নেওয়া হবে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় প্রথম নামটি হবে ‘নিসর্গ’ (বাংলাদেশ), দ্বিতীয় নামটি হবে ‘গতি’ (ভারত), তৃতীয় নামটি হবে ‘নিভার’ (ইরান) ইত্যাদি।     

বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরসহ উত্তর ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা ২০২০ : ২০২১

দেশের নাম কালাম ১কালাম ২কালাম ৩কালাম ৪কালাম ৫কালাম ৬কালাম ৭কালাম ৮কালাম ৯কালাম ১০কালাম ১১কালাম ১২কালাম ১৩
বাংলাদেশ
(Bangladesh)
নিসর্গ
(Nisarga)
বিপর্যয়
(Biparjoy)
অর্ণব
(Arnab)
উপকূল
(Upakul)
বর্ষণ
(Barshon)
রজনি
(Rajani)
নিশীথ
(Nishith)
উর্মি
(Urmi)
মেঘলা
(Meghala)
সমীরণ
(Samiron)
প্রতিকূল
(Pratikul)
সরোবর
(Sarobor)
মহানিশা
(Mahanisha)
ভারত
(India)
গতি
(Gati)
তেজ
(Tej)
মুরাসু
(Murasu)
আগ
(Aag)
ভ্যোম
(Vyom)
ঝড়
(Jhar)
প্রবাহ
(Probaho)
নীর
(Neer)
প্রভাঞ্জন
(Prabhanjan)
ঘূর্ণি
(Ghurni)
অম্বুদ
(Ambud)
জলধি
(Jaladhi)
ভেগা
(Vega)
ইরান
(Iran)
নিভার
(Nivar)
হামুন
(Hamoon)
AkvanSepandBooranAnahitaAzarPooyanArshamHengameSavasTahamtanতুফান
(Toofan)
মালদ্বীপ
(Maldives)
বুরেভী
(Burevi)
মিধিলি
(Midhili)
KaaniOdiKenauEndheriRiyauGuruvaKurangiKuredhiHoranguThundiFaana
মায়ানমার
(Myanmar)
টাউকটে
(Tauktae)
মিগজাউম
(Michaung)
NgamannKyarthitSapakyeeWetwunMwaihoutKywePinkuYinkaungLinyoneKyeekanBautphat
ওমান
(Oman)
ইয়াস
(Yaas)
রিমল
(Remal)
SailNaseemMuznSadeemDimaManjourRukamWatadAl-jarzRababRaad
পাকিস্তান
(Pakistan)
গুলাব
(Gulab)
আসনা
(Asna)
SahabAfshanManahilShujanaParwazZannataSarsarBadbanSarrabGulnarWaseq
কাতার
(Qatar)
শাহীন
(Shaheen)
ডানা
(Dana)
LuluMoujSuhailSadafReemRayhanAnbarOudBaharSeefFanar
সৌদি আরব
(Saudi Arabia)
জওয়াদ
(Jawad)
ফেঙ্গাল
(Fengal)
GhazeerAsifSidrahHareedFaidKaseerNakheelHaboobBareqAlreemWabil
শ্রীলঙ্কা
Sri Lanka)
অশনি
(Asani)
শক্তি
(Shakhti)
GigumGaganaVerambhaGarjanaNeebaNinnadaViduliOghaSalithaRiviRudu
থাইল্যান্ড
(Thailand)
সিত্রঙ্গ
(Sitrang)
মোনথা
(Montha)
ThianyotBulanPhutalaAiyaraSamingKraisonMatchaMahingsaPhraewaAsuriThara
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী
(United Arab Emirates)
মানডাস
(Mandous)
সেন্যার
(Senyar)
AfoorNahhaamQuffalDaamanDeemGargoorKhubbDeglAthmadBoomSaffar
ইয়েমেন
(Yemen)
মোখা
(Mocha)
দিত্বা
(Ditwah)
DiksamSiraBakhurGhwyziHawfBalhafBromShuqraFartakDarsahSamhah
Previous articleজয় জোহার প্রকল্প – তপশিলি উপজাতির (ST) মানুষদের মাসিক ১,০০০ টাকা পেনশন | Jai Johar
Next articleদশম শ্রেণির জাতীয় পারদর্শিতার সমীক্ষা ২০২১ এর ভৌতবিজ্ঞান MCQ Adaptation Package

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here