কৃষক বন্ধু প্রকল্প | Krishak Bandhu Scheme in Bengali

Table of Contents

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের উদ্দেশ্য (Objectives of Krishak Bandhu Scheme)

কৃষক বন্ধু (Krishak Bandhu) প্রকল্পের উদ্দেশ্যগুলি হল –

  • চাষ শুরুর আগে (pre-production stage) কৃষকদের কৃষি উপকরণ কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান।
  • অসময়ে কৃষকের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান।

প্রকল্পের অংশ (Components of Krishak Bandhu Scheme)

দুটি অংশ :

  • কৃষক বন্ধু (সুনিশ্চিত আয়) প্রকল্প – Krishak Bandhu (Assured Income) scheme এবং
  • কৃষক বন্ধু (মৃত্যুজনিত সহায়তা) প্রকল্প – Krishak Bandhu (Death Benefit) scheme.

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা (Krishak Bandhu Scheme benefits)

ক) কৃষক বন্ধু (সুনিশ্চিত আয়) প্রকল্প – Krishak Bandhu (Assured Income) scheme – “কৃষক বন্ধু” (সুনিশ্চিত আয়) প্রকল্পে নথিভুক্ত কৃষক (ROR) ও ভাগচাষী (recorded Bhagchasi) এক একর বা তার অধিক কৃষিযোগ্য জমির জন্য বছরে ১০,০০০/- টাকা (আগে ছিল ৫,০০০ টাকা) সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। এক একরের কম জমির জন্য আনুপাতিক হারে সহায়তা পাবেন। তবে বছরে নূন্যতম ৪,০০০/- টাকা (আগে ছিল ২,০০০ টাকা)পাবেন। এই টাকা দুই কিস্তিতে পাবেন। প্রথমটি খরিফ (Kharif) মুরশুমে ও দ্বিতীয় কিস্তি রবি (Rabi) মুরশুমে।

খ) কৃষক বন্ধু (মৃত্যুজনিত সহায়তা) প্রকল্প – Krishak Bandhu( Death Benefit) scheme – “কৃষক বন্ধু” (মৃত্যুজনিত সহায়তা) প্রকল্পে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের কৃষক বা নথিভুক্ত ভাগচাষীর মৃত্যুতে তাঁর আইন সম্মত উত্তরাধিকারী (রা) (legal heirs) এককালীন দুই লক্ষ টাকা সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। সংশ্লিষ্ট ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) আইন সম্মত উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দেবেন।

কৃষক বন্ধু (সুনিশ্চিত আয়) প্রকল্প – Krishak Bandhu (Assured Income) scheme

কৃষক বন্ধু (সুনিশ্চিত আয়) প্রকল্পের অধীনে আসার যোগ্যতা – Eligibility Criteria for Krishak Bandhu (Assured Income) Scheme

কৃষকদের নিজ নামে কৃষিযোগ্য  জমির পরচা (RoR) / পাট্টা (Patta) / বনবিভাগের পাট্টা (Forest Patta) থাকতে হবে অথবা নিবন্ধীকৃত ভাগচাষী (recorded [in RoR] Bhagchasi) হতে হবে।

গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে কৃষক বন্ধু (সুনিশ্চিত আয়) প্রকল্পে নিবন্ধীকরণের পদ্ধতি (Process of registration for Krishak Bandhu (Assured Income) Scheme at GP Level Camps)

  • যে গ্রাম পঞ্চায়েতে সর্বাধিক কৃষিজমি আছে কৃষকদের সেইখানে নিবন্ধীকৃত হতে হবে।
  • কৃষককে নিন্মলিখিত মূল (original) নথি দেখাইয়া একটি করে প্রতিলিপি (photocopy) দরখাস্তের সাথে যুক্ত করে দিতে হবে৷
    • সাম্প্রতিক চাষযোগ্য জমির পরচা (Latest RoR) / বর্গা নিবন্ধীকরণের নথি (RoR recorded with Barga) / পাট্টা (Patta Record) বা বনবিভাগের পাট্টার (Forest Patta) নথি।
    • বৈধ ভোটার কার্ড (আবশ্যিক)
    • আধার কার্ড (ঐচ্ছিক)
    • ব্যাঙ্ক পাসবুক (Bank pass book 1st page) / বাতিল ব্যাঙ্ক চেক (Cancelled Cheque)
    • এছাড়াও পাসপোর্ট সাইজের সাম্প্রতিক একটি ছবি এবং চালু মোবাইল ফোন নাম্বার দিতে হবে।
  • কৃষকের দরখাস্ত গৃহীত হলে “কৃষক বন্ধু” আপের মাধ্যমে যাচাই করা হবে (ইন্টারনেট সংযোগ উপলব্ধ হলে) এবং তাঁকে প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ (Acknowledgement Slip) দেওয়া হবে।

দরখাস্ত অনুমোদনের পদ্ধতি (Process flow of approval of the application)

1) “দুয়ারে সরকার” শিবিরে দরখাস্তের ডিজিটাইজেশন সম্ভব না হলে (ইন্টারনেট সংযোগের অভাবে) সেটি সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি দপ্তরে “কৃষক বন্ধু” আপের মাধ্যমে ডিজিটাইজড করে একনলেজমেন্ট আই ডি সংগ্রহ করে “কৃষক বন্ধু” পোর্টালে সংযুক্ত করা হবে।

2) সংশ্লিষ্ট সহকৃষি অধিকর্তা (Assistant Director of Agriculture – ADA) দরখাস্তের বিশদ তথ্য যাচাই করবেন।

3) দরখাস্তের সব তথ্য সঠিক হলে সহ কৃষি অধিকর্তার অনুমোদনের পরে সেটি নিবন্ধীকৃত হবে। যদি দরখাস্তের বিবরণ সঠিক না হয় সেটি বাতিল হবে এবং দরখাস্তকারী বাতিলের কারণ এস.এম.এস (sms) এর মাধ্যমে জানতে পারবেন।

সহায়তা প্রদানের পদ্ধতি (Payment of Assistance)

1) প্রতি মুরশুমের (খরিফ বা রবি) স্থিরিকৃত একটি দিন পর্যন্ত নথিভুক্ত উপভোক্তাদের তালিকা “কৃষক বন্ধু” পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করে ওয়েবেল (Webel) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্কের (West Bengal State Co-operative Bank Ltd. – WBSCBL) কাছে সরাসরি সহায়তা প্রদানের জন্য পাঠাবেন।

2) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্ক উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট যাচাই করে অনলাইনে সরাসরি (DBT) উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে টাকা প্রদান করবেন।

3) ভুল ব্যাঙ্ক একাউন্ট সংশ্লিষ্ট সহকৃষি অধিকর্তার কাছে সংশোধনের জন্য পাঠানো হবে।

কৃষক বন্ধু (সুনিশ্চিত আয়) প্রকল্প সম্বন্ধে প্রায়শ জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন – FAQ for Krishak Bandhu (Assured Income) Scheme

১) কে কৃষক বন্ধু (সুনিশ্চিত আয়) প্রকল্পে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য? – Who is eligible to get benefit of Krishak Bandhu Scheme?

উত্তর – নিজ নামে পরচা থাকা যেকোনো কৃষক ও নথিভুক্ত ভাগচাষী।

2) দরখাস্তের সাথে কি কি নথি যুক্ত করতে হবে? – Which documents are required for application?

উত্তর: ভোটার কার্ড, পরচা, ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতা | বাতিল চেক (যাচাই এর জন্য মূল নথি সঙ্গে আনতে হবে) এর একটি করে প্রতিলিপি এবং পাসপোর্ট সাইজের সাম্প্রতিক একটি ছবি।

3) দরখাস্তকারী কি প্রাপ্তি স্বীকারের রসিদ পাবেন? – Will Farmers get any acknowledgement after submission of the Application?

উত্তর: হ্যাঁ, তাঁরা প্রাপ্তি স্বীকারের রসিদ পাবেন৷

4) কত টাকা সহায়তা পাবেন? – How much is the Extent of Assistance?

উত্তর: প্রতি বছরে সর্বাধিক ১০,০০০/- টাকা ও সর্বনিন্ম ৪,০০০/- টাকা পাবেন। অনুমোদিত সহায়তার পরিমাণের 50% করে দুই সমান কিস্তিতে পাবেন।

5) কি রূপে টাকা পাবেন? – What will be the Mode of Payment?

উত্তর: উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকে যাবে (DBT)।

6) কৃষকরা কি দরখাস্ত পূরণের ব্যাপারে কোনো সাহায্য পাবেন? – Will the Farmers get assistance in Filling up of the Application Form?

উত্তর: হ্যাঁ, বাংলায় ছাপা দরখাস্ত শিবির থেকেই পাওয়া যাবে এবং সরকার মনোনীত ব্যক্তি দরখাস্ত পূরণে সাহায্য করবেন।

কৃষক বন্ধু (মৃত্যুজনিত সহায়তা) প্রকল্প – Krishak Bandhu (Death Benefit) Scheme

“কৃষক বন্ধু” (মৃত্যুজনিত সহায়তা) প্রকল্পের অধীনে আসার যোগ্যতা – Eligibility Criteria for Krishak Bandhu (Death Benefit) Scheme

এই প্রকল্পে 18 থেকে 60 বছর বয়সী কৃষক অথবা নথিভুক্ত ভাগচাষীর মৃত্যু হলে তাঁর আইন সম্মত উত্তরাধিকারী (গণ) এককালীন দুই লক্ষ টাকা সহায়তা পাওয়া যোগ্য হতে পারেন।

গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে “কৃষকবন্ধু” (মৃত্যুজনিত সহায়তা) প্রকল্পে আবেদন করার পদ্ধতি (Process of application for Krishak Bandhu (Death Benefit) Scheme at GP Level Camps)

যোগ্য দাবিদার (গণ) “দু্যারে সরকার” (Duare Sarkar) শিবির থেকে আবেদন পত্র পাবেন। এছাড়াও www.matirkatha.net অথবা www.matirkatha.gov.in  ওয়েবসাইট থেকেও সংগ্রহ করতে পারবেন।

নিন্মলিখিত নথিসহ পূরণ করা আবেদন পত্র ঐ শিবিরে জমা দেবেন

  • মৃত কৃষক বা নথিভুক্ত ভাগচাষীর সচিত্র পরিচয় পত্রের প্রত্যায়িত প্রতিলিপি (ভোটার কার্ড / আধার কার্ড / প্যান কার্ড / পাসপোর্ট প্রভৃতি)।
  • মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর শংসাপত্রের (death certificate) প্রতিলিপি৷
  • সংশ্লিষ্ট ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক আইন সম্মত উত্তরাধিকারী (গণ) এর শংসাপত্র দেবেন।
  • মৃত কৃষক বা নথিভুক্ত ভাগচাষীর নামে জমির সাম্প্রতিক পরচার প্রত্যায়িত প্রতিলিপি৷
  • দাবিদার (গণ) শিবিরে সরবরাহ করা স্বঘোষণা পত্র দরখাস্তের সাথে জমা দেবেন। নাবালক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে স্বঘোষণা পত্রের সাথে স্বাভাবিক / আইন সম্মত অভিভাবকের স্বঘোষণাপত্র পেশ করতে হবে।

(মূল নথি যাচাই এর জন্য সঙ্গে আনতে হবে)।

দরখাস্ত অনুমোদনের পদ্ধতি

1) নথিসহ পরীক্ষার পরে দরখাস্তটি সম্পূর্ণ ও যথাযথ হলে সংশ্লিষ্ট সহ কৃষি অধিকর্তা আবেদনপত্রটি সেই মহকুমার সহ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) এর কাছে পাঠাবেন।

2) সহ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) আবেদনপত্রটি যথাযথ ভাবে পরীক্ষার পর অনুমােদন করে সম্পূর্ণ তথ্যসহ সেই জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) এর মাধ্যমে রাজ্যস্তরে পাঠাবেন।

3) রাজ্যস্তরে কৃষি অধিকর্তা দাবিদার (গণ) এর ব্যাঙ্ক একাউন্টে সরাসরি সহায়তা প্রদানের (DBT) জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সমবায় ব্যাংকে নির্দেশ পাঠাবেন।

4) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্ক অনুমোদিত অর্থ দাবিদার (গণ) এর ব্যাঙ্ক একাউন্টে অনলাইনে সরাসরি পাঠিয়ে দেবেন।

“কৃষক বন্ধু” (মৃত্যুজনিত সহায়তা) প্রকল্প সম্বন্ধে প্রায়শ জিজ্ঞাসা প্রশ্ন – FAQ for Krishak Bandhu (DB) Scheme

1) নির্দিষ্ট আবেদনপত্র আবেদনকারী (গণ) কোথায় পাবেন? – Where can the applicants get the prescribed application form?

উত্তর: আবেদন পত্র “দু্যরে সরকার” শিবির থেকে পাবেন। এছাড়াও www.matirkatha.gov.in অথবা www.matirkatha.net ওয়েবসাইট থেকেও সংগ্রহ করতে পারবেন।

2) কে আইনসম্মত উত্তরাধিকারী (গণ) এর শংসাপত্র দেবেন? – Who will issue the legal claimant(s) certificate(s)?

উত্তর: সংশ্লিষ্ট ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) দেবেন৷

3) “দু্যারে সরকার” শিবিরে কি আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে? – Can application form be submitted in the camp?

উত্তর: হ্যাঁ, ঐ শিবিরেই আবেদনপত্র জমা করা যাবে।

4) যদি দাবিদার একাধিক হয় তাহলে কি প্রতি দাবিদার দুই লক্ষ টাকা পাবেন? – If there are more than one claimant, will each claimant get Rs. 2,00,000/- ?

উত্তর: না, মৃতের পরিবার সর্বমোট দুই লক্ষ টাকা পাবেন। একাধিক দাবিদার থাকলে ঐ দুই লক্ষ টাকা (Rs. 2,00,000/-) নথি অনুযায়ী দাবিদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।

কিভাবে ভোটার কার্ড দিয়ে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের স্ট্যাটাস জানা যায়?

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের স্ট্যাটাস চেক করার জন্য নিম্নলিখিত স্টেপগুলি অনুসরণ করতে হবে।

১) প্রথমে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে।

Krishak Bandhu Status check
কৃষক বন্ধু স্ট্যাটাস চেক – Krishak Bandhu Status check

২) তার পর নথিভুক্ত কৃষকের তথ্য তে ক্লিক করতে হবে।

Krishak Bandhu Status check Step-2

৩) ভোটার কার্ডের নম্বর দেওয়া এবং I’m not a robot এ ক্লিক করে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের পর Search এ ক্লিক করলে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের স্ট্যাটাস জানা যাবে।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের বিবরণ

স্কিমের নামকৃষক বন্ধু প্রকল্প (Krishak Bandhu Scheme)
প্রদানকারী কর্তৃপক্ষপশ্চিমবঙ্গ সরকার
সুবিধাভোগীপশ্চিমবঙ্গের কৃষক
উদ্দেশ্যচাষ শুরুর আগে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান।

অসময়ে কৃষকের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান।
সর্বোচ্চ সহায়তাবছরে ১০,০০০ টাকা
সর্বনিম্ন সহায়তাবছরে ৪,০০০ টাকা
মৃত্যুজনিত সহায়তাএককালীন দুই লক্ষ টাকা
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটhttps://krishakbandhu.net/

আরও পড়ুন – প্রধান মন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি | Pradhan Mantri KIsan SAmman Nidhi

Leave a Reply

Your email address will not be published.